প্রিয় কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মূল লেখার জন্য ক্লিক করুন

সামহয়্যারইন ব্লগে প্রকাশিত by বিষাক্ত মানুষ

Trzy słowa najdziwniejsze

Kiedy wymawiam słowo Przyszłość,
pierwsza sylaba odchodzi już do przeszłości.
Kiedy wymawiam słowo Cisza,
niszczę ją.
Kiedy wymawiam słowo Nic,
stwarzam coś, co nie mieści się w żadnym niebycie.


- Wisława Szymborska

তিনটি অদ্ভুতুরে শব্দ

যখন আমি 'ভবিষ্যৎ' শব্দটি উচ্চারন করি
প্রথম অক্ষরটি ইতিমধ্যে অতীত হয়ে যায়
যখন আমি 'নিস্তব্ধতা' শব্দটি উচ্চারন করি
আমি (নিস্তব্ধতা) ভেঙে চুরমার করে দেই
যখন আমি 'শূন্যতা' শব্দটি উচ্চারন করি
এমন কিছু তৈরি হয় যা অস্তিত্বরক্ষকরা ছুঁতে পারে না। (পুরোটা পড়ুন...)

লজ্জাবতী প্রিয়তমাকে  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম: ,

ভূমিকা ও অনুবাদ: সুরেশ রণ্জ্ঞন বসাক
সপ্তদশ শতকের লিখিত পাঁচটি শ্রেষ্ঠ কবিতা বেছে নিতে হয় তবে অবধারিতভাবেই এন্ডু মার্ভেলের টু হিজ কয় মিসট্রেস কে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। টু হিজ কয় মিসট্রেস মূখ্যত প্রনয়ের কবিতা। এর জৈবগন্ধটুকু বাদ দিলে অনায়াসে আমাদের রবীন্দ্রনাথের কবিতার স্বগোত্রীয় ভাবা যায়। তিনশোরও বেশি বছর ধরে এ কবিতা অব্যাহত গঠন-পাঠনে প্রাচীন হয় নি। পুরোনো হয নি এর বাণী ও প্রকাশের ঐশ্বর্য।

লজ্জাবতী প্রিয়তমাকে

আমাদের থাকতো যদি অনিঃশেষ পরিসর ও অনন্ত সময়
তোমার এ লজ্জা, প্রিয়া, হতো না কিছুতেই দোষের বিষয়।
দু'জনে বসে বসে ভেবে ভেবে করতাম ঠিক
কিভাবে কাটাবো দীর্ঘ দিবস আর যাবো কোন্ দিক।
সুদূর ভারতে তুমি গঙ্গার তীরে তীরে হেঁটে
মুক্তো কুড়োতে যদি, হামবুরের থৈ থৈ তটে
আমি একা হতভাগ্য হাপিত্যেশে কাটাতাম দিন।
তবু বলি, তোমার জন্য আমার প্রেম অমলিন।
নুহের বন্যার আগে বছর দশেকেরও যদি হয়
তোমাকে বাসিবো ভালো, জেনো নিশ্চয়;
যদি চাও অস্বীকার করে যেও যতদিন খুশী
যদ্দিন ইহুদীরা ভিন্ন ধর্মে না হচ্ছে বিশ্বাসী।
আমার সবুজ প্রেম, সাম্রাজ্য কোন ছার, ঢের বৃহত্তর
এ প্রেম ক্রমশঃ বাড়ে, গাঢ় হয়, হোক না মন্থর।
কপালের রুপ দেখে, বন্দনা করে তোমার দু'চোখ ডাগর
জেনো বন্ধু, নির্ঘাৎ কাটাতে পারি একশো বছর।
আরো শ'দুয়েক বছর না হয় কাটিয়ে দিলাম স্তন বন্দনায়;
তিরিশ হাজার বছর অবশিষ্ট দেহ বর্ণানায়।
প্রতিটি অঙ্গের স্তবে বরাদ্দ করেছি প্রিয়া এক যুগ সময়
শেষ যুগে এসে যদি উন্মুক্ত করো তোমার পাষাণ হৃদয়।
এ সম্মান তোমারই প্রাপ্য- সব স্তব প্রশংসাকীর্ত্তন
তোমাকে যে ভালোবাসে তার কি হওয়া সাজে স্তুতিতে কৃপন।

কিন্তু প্রিয়ে, আমার পশ্চাতে যে নিত্যদিন শুনি
কালের ডানাওয়ালা রথচক্রের ধাবমান ধ্বনি।
যতোদূর চোখ যায় চেয়ে দেখো নিস্তব্ধ নিথর
শুয়ে আছে মহাকাল ঠিক যেন বালুকাপ্রান্তর।
তোমার এ রূপ প্রিয়ে থাকিবে না জেনো চিরকাল
মর্মর সমাধিতলে যখন ঘুমাবে তুমি, রূপের কাঙাল।
আমার প্রেমের গান পৌছাবে না তোমার কবর
সযত্নে রক্ষিত সব সতীপনা খেয়ে নেবে পোকা ও মাকড়।
তোমার মেকি আব্রু ,হায় নারী, ধুলো হবে সার
আমার কাম ও প্রেম জ্বলে পুড়ে হবে অঙ্গার।
কবর বড়োই স্নিগ্ধ, নিঃসন্দেহে বড়ো নিড়িবিলি,
তাই বলে কোন্ প্রিয় সেখানে প্রিয়াকে তার, করে কোলাকুলি?

অতএব যখন রয়েছে দেহে ঢলো ঢলো যৌবনমদির
সোনালী রুপালী রঙ ত্বক ছোঁয় ভোরের শিশির,
যখন তোমার প্রাণ কোষের প্রতিটি রন্ধ্রে ধরে
জাগ্রত কামনায় প্রতি মুহূর্তকে তোলে ভরে
এই তো মাহেন্দ্রসময়, দু'জনেই ভালোবাসা গড়ি
বিশ্ব জানিয়া রাখুক, প্রেমবিদ্ধ আমরা দুই শুক ও সারী।
সময় খাবে তো খাক্, দুঃখ নেই, সেই ঢের ভালো
তিলে তিলে অগস্ত্য যাত্রার কোন মানে আছে বলো?
চলো তবে আমাদের যা কিছু আছে সুন্দর শার্দুল
মিলেমিশে একাকার ব্রক্ষ্মান্ডে গড়িয়ে যাবো গোলক বর্তুল
লৌহ দড়জা খুলে জীবনের পথচলা করিয়াছি স্হির
কঠিন আঘাত হেনে চূর্ণবিচূর্ণ করবো আনন্দ শরীর,
কারো সাধ্যি নেই সূর্যকে থামিয়ে দেই দূরের আকাশে
নিশ্চয় ঘোরাতে পারি আমাদের গ্রহ পথে, সেটা কম কিসে।
(পুরোটা পড়ুন...)

তুমি হাতখানি রাখো  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম: , ,

হাইনরিখ হাইনের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯৭-এ…যখন আমি ক্লাস সেভেনের ছাত্র। পরিচয় হয়েছিলো খুব সাদামাটাভাবে-দৈনিক ইত্তেফাকের সাময়িকীতে তার জন্মের দুইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশতি একটি প্রবন্ধ পড়ে। এরপর হুমায়ূন আজাদ কর্তৃক হাইনের কিছু কবিতার বাংলা অনুবাদ পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়। এবং সেই অনুবাদ আমার মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। কবিতার পেপার কাটিং জমানো তখন আমার একটা হবি ছিল। এবং কবিতাগুলো এখনো আমার সংগ্রহে আছে। পরবর্তীতে আহমদ ছফার জার্মান সাহিত্যের কবিদের উপর লেখা (বইটির নাম মনে নেই) একটি বৃহদাকার বই-এ হাইনে সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়। নেট নেয়ার পড়ে হাইনের কবিতার ইংরেজী অনুবাদ পড়ার সুযোগ পেয়েছি। সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় বার বার হাইনের নাম উঠে এসেছে।

হাইনে (১৭৯৭-১৮৫৬) জার্মান ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বিষাদময় রোমান্টিক কবি বলেই তাঁর সুখ্যাতি বেশি। কবিতার ভাষা রচনায় তিনি অত্যন্ত সরল। তাঁর লেখায় ইশ্বর প্রেম ও মানবপ্রেম উঠে এসেছে স্বমহিমায় কিন্তু অত্যন্ত সহজভাবে। কিছুটা রবীন্দ্রনাথের আদ্ধাত্বিক ও পূজা বিষয়ক গানের মতো। ধর্মে ইহুদী ছিলেন বলে আজীবন তাকে খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়েছেন। জীবনের শেষ আট বছর যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন। যক্ষার কথা জানতে পেরে বাড়িওয়ালা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। প্যারিসে মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে তাঁর মন্তব্য ছিলো..” ইশ্বর আমাকে ক্ষমা করবেন, কারন এটাই তার কাজ।”

আমার এই প্রিয় কবির কবিতার অনুবাদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। যদি বাংলা ভাষায় হাইনের অনুবাদের কাব্যগ্রন্থ আছে কিনা আমার জানা নেই। আমি প্রতি বই মেলায় খুঁজি। আমার সেই পুরানা পেপার কাটিং হতে শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদের একটি অনুবাদ এখানে তুলে দিলাম।

তুমি হাতখানি রাখো
প্রিয়তমা, তুমি হাতখানি রাখো এই বুকে।
শুনতে পাচ্ছো কি শব্দ? কে যেন হাতুড়ি ঠুকে চলেছে?
সেখানে এক মিস্ত্রি থাকে, যে বানিয়ে চলেছে এক শবাধার।
কার জন্য জানো?- আমার আমার।

উল্লাসে বিদ্বেষে নিরন্তর সে হাতুড়ি ঠুকছে দুই হাতে,
কিছুতেই ঘুমোতে পারছি না আমি, দিনে আর রাতে।
মিস্ত্রি, দ্রুত করো, তুমি কাজ শেষ করো তাড়াতাড়ি,
যাতে আমি অবশেষে বিগ্নহীন ঘুম যেতে পারি।

অনুবাদ: হুমায়ুন আজাদ
(পুরোটা পড়ুন...)

এখানে দরজা ছিলো-শামসুর রাহমান  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম: ,

এখানে দরজা ছিলো, দরজার ওপর মাধবী
লতার একান্ত শোভা। বারান্দার টব, সাইকেল
ছিলো তিন চাকা-অলা, সবুজ কথক একজন,
দাঁড়বন্দী। রান্নাঘর থেকে উঠতো রেশমী ধোঁয়া।

মখমল পায়ে কেউ, এঁটোকাঁটাজীবী, অন্ধকারে
রাখতো কখনো জ্বেলে এক জোড়া চোখ। ভোরবেলা
খবর কাগজে মগ্ন কে নীরব বিশ্ব-পর্যটক
অকস্মাৎ তাকাতেন কাকময় দেয়ালের দিকে।

ভাবতেন শৈশবের মাঠ, বল হারানোর খেদ
বাজতো নতুন হয়ে। মুহূর্তে মুহূর্তে শুধু বল
হারাতেই থাকে, কোন হুইসিল পারে না রুখতে।
ক্ষতির খাতায় হিজিবিজি অঙ্কগুলি নৃত্যপর।

এখানে দরজা ছিলো, দরজার উপরে মাধবী
লতার একান্ত শোভা। এখন কিছু নেই,
কিছু নেই। শুধু এক বেকুব দেয়াল শেল-খাওয়া
কেমন দাঁড়ানো, একা। কতিপয় কলঙ্কিত ইট
আছে পড়ে ইতস্তত। বাঁ-দিকে তাকালে ভাঙাচোড়া
একটি পুতুল পাবে, তা ছাড়া এখানে কিছু নেই।

ভস্মস্তুপে স্হির আমি, ধ্বংসচিহ্ন নিজেই বা।
ভস্ম নাড়ি জুতো দিয়ে, যদি ছাই থেকে অকস্মাৎ
জেগে উঠে অবিনাশী কোন পাখি, যদি দেখা যায়
কারুর হাসির ছটা, উন্মিলিত স্নেহ, ভালোবাসা।

(বিজয় দিবসে সকল মু্ক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং অংশগ্রহনকারী সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা..........)
(পুরোটা পড়ুন...)