ক্লাসে লেখা কবিতা….  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম:

(বোরিং ক্লাসে বইয়া বইয়া ছুটুখাট মেলা কবিতা লিখছি….লিখা পাস করছি আশেপাশে…..ফ্রেন্ডরা কমেন্ট লিখা দিত…কবিতাগুলা সংরক্ষন করি নাইকা….ব্যাগের সাইড পকেটে অথবা মেকানিক্স খাতার পাতায় আছে হয়তো….তার একটা খুইজা পাইলাম…..কুনু ইডিটিং না কইরা তুইলা দিলাম)

(১)
ভেজা ভেজা মেঘের শীতে কুঁকড়ে থাকা
কুয়াশায় ডুবন্ত সকাল।
আমি যখন শিশির ভেজা শিউলি ফুল কুড়াই,
আমাকে সাহায্য করে দু’জন সর্দি ঝড়া পথবালিকা।
রাতজেগে চলা নির্ঘুম ট্রাক,
একটা-দুটো গেয়োঁ রিকশা শব্দে-নিঃশব্দে চলে যায়।
ছেড়া কাঁথার মতো পলিব্যাগ-
বালিকারা মুঠো ভরে আমার জন্য ফুল বয়ে নিয়ে আসে।

(২)
আজকের দিনটা তুলোর মতো,
ফুঁ দিলেই যেন বাতাসে হারায়।
তুমি যেন পিক আওয়ারের ব্যাস্ত নেটওর্য়াক।
আমার কলগুলো শুধু মিসকল হয়ে যায়।

(৩)
হালিম স্যারের ক্লাসে তোমায় নিয়ে কবিতা লিখি।
কবিতা তো নয়, যেন শুধু অনর্থক আকিঁবুকি।
মেশিনগানের সামনে তো কবিতা এফোঁর-ওফোঁড়।
দুর্বোধ্য লেকচার আর দুর্বোধ্য তুমি মিলে
হয়েছো চমৎকার মানিকজোড়
(পুরোটা পড়ুন...)

তুমি হাতখানি রাখো  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম: , ,

হাইনরিখ হাইনের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯৭-এ…যখন আমি ক্লাস সেভেনের ছাত্র। পরিচয় হয়েছিলো খুব সাদামাটাভাবে-দৈনিক ইত্তেফাকের সাময়িকীতে তার জন্মের দুইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশতি একটি প্রবন্ধ পড়ে। এরপর হুমায়ূন আজাদ কর্তৃক হাইনের কিছু কবিতার বাংলা অনুবাদ পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়। এবং সেই অনুবাদ আমার মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। কবিতার পেপার কাটিং জমানো তখন আমার একটা হবি ছিল। এবং কবিতাগুলো এখনো আমার সংগ্রহে আছে। পরবর্তীতে আহমদ ছফার জার্মান সাহিত্যের কবিদের উপর লেখা (বইটির নাম মনে নেই) একটি বৃহদাকার বই-এ হাইনে সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়। নেট নেয়ার পড়ে হাইনের কবিতার ইংরেজী অনুবাদ পড়ার সুযোগ পেয়েছি। সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় বার বার হাইনের নাম উঠে এসেছে।

হাইনে (১৭৯৭-১৮৫৬) জার্মান ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বিষাদময় রোমান্টিক কবি বলেই তাঁর সুখ্যাতি বেশি। কবিতার ভাষা রচনায় তিনি অত্যন্ত সরল। তাঁর লেখায় ইশ্বর প্রেম ও মানবপ্রেম উঠে এসেছে স্বমহিমায় কিন্তু অত্যন্ত সহজভাবে। কিছুটা রবীন্দ্রনাথের আদ্ধাত্বিক ও পূজা বিষয়ক গানের মতো। ধর্মে ইহুদী ছিলেন বলে আজীবন তাকে খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়েছেন। জীবনের শেষ আট বছর যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন। যক্ষার কথা জানতে পেরে বাড়িওয়ালা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। প্যারিসে মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে তাঁর মন্তব্য ছিলো..” ইশ্বর আমাকে ক্ষমা করবেন, কারন এটাই তার কাজ।”

আমার এই প্রিয় কবির কবিতার অনুবাদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। যদি বাংলা ভাষায় হাইনের অনুবাদের কাব্যগ্রন্থ আছে কিনা আমার জানা নেই। আমি প্রতি বই মেলায় খুঁজি। আমার সেই পুরানা পেপার কাটিং হতে শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদের একটি অনুবাদ এখানে তুলে দিলাম।

তুমি হাতখানি রাখো
প্রিয়তমা, তুমি হাতখানি রাখো এই বুকে।
শুনতে পাচ্ছো কি শব্দ? কে যেন হাতুড়ি ঠুকে চলেছে?
সেখানে এক মিস্ত্রি থাকে, যে বানিয়ে চলেছে এক শবাধার।
কার জন্য জানো?- আমার আমার।

উল্লাসে বিদ্বেষে নিরন্তর সে হাতুড়ি ঠুকছে দুই হাতে,
কিছুতেই ঘুমোতে পারছি না আমি, দিনে আর রাতে।
মিস্ত্রি, দ্রুত করো, তুমি কাজ শেষ করো তাড়াতাড়ি,
যাতে আমি অবশেষে বিগ্নহীন ঘুম যেতে পারি।

অনুবাদ: হুমায়ুন আজাদ
(পুরোটা পড়ুন...)

আজ আনমনে লিখি তোমার জন্য  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম:

কখনো খেলাচ্ছলে, কখনো ভুলে
আনমনে লিখেছি তোমার নাম,
তারপর তাকে সাজিয়েছি,
তাকে লুকিয়েছি আমার বন্ধুদের নজর থেকে।

কখনো রাজপথ, শীতের ওম কুড়াতে,
প্রিয় চায়ের দোকানটার খোঁড়া বেন্চীতে বসে,
আনমনে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে ভেবেছি
একা থাকা মাঝে মাঝে অসহ্য...
মাঝে মাঝে একজন সঙ্গিনীরও দরকার হয়,
ভাপা পিঠাটা ভাগাভাগি করে খাবার জন্য।

ধুলো পড়া কবিতার খাতায়,
আমার জমে থাকা কষ্টগুলো ঝেড়ে ফেলে
পরম মমতায় হাত বুলাই।
তোমাকে নিয়ে লেখা প্রেমের কবিতাগুলো সবাই পড়লো-
কই, তুমি তো পড়ে দেখলে না।

রাত ১০:৩০
ডিসেম্বর ছয়


(অনেক দিন কবিতা লিখি না....আমার কাছে কবিতা লেখা মানে অবশেষে নিজের কাছে ফিরে আসা)
(পুরোটা পড়ুন...)

এখানে দরজা ছিলো-শামসুর রাহমান  

প্রকাশ করেছেন নকীব -শিরোনাম: ,

এখানে দরজা ছিলো, দরজার ওপর মাধবী
লতার একান্ত শোভা। বারান্দার টব, সাইকেল
ছিলো তিন চাকা-অলা, সবুজ কথক একজন,
দাঁড়বন্দী। রান্নাঘর থেকে উঠতো রেশমী ধোঁয়া।

মখমল পায়ে কেউ, এঁটোকাঁটাজীবী, অন্ধকারে
রাখতো কখনো জ্বেলে এক জোড়া চোখ। ভোরবেলা
খবর কাগজে মগ্ন কে নীরব বিশ্ব-পর্যটক
অকস্মাৎ তাকাতেন কাকময় দেয়ালের দিকে।

ভাবতেন শৈশবের মাঠ, বল হারানোর খেদ
বাজতো নতুন হয়ে। মুহূর্তে মুহূর্তে শুধু বল
হারাতেই থাকে, কোন হুইসিল পারে না রুখতে।
ক্ষতির খাতায় হিজিবিজি অঙ্কগুলি নৃত্যপর।

এখানে দরজা ছিলো, দরজার উপরে মাধবী
লতার একান্ত শোভা। এখন কিছু নেই,
কিছু নেই। শুধু এক বেকুব দেয়াল শেল-খাওয়া
কেমন দাঁড়ানো, একা। কতিপয় কলঙ্কিত ইট
আছে পড়ে ইতস্তত। বাঁ-দিকে তাকালে ভাঙাচোড়া
একটি পুতুল পাবে, তা ছাড়া এখানে কিছু নেই।

ভস্মস্তুপে স্হির আমি, ধ্বংসচিহ্ন নিজেই বা।
ভস্ম নাড়ি জুতো দিয়ে, যদি ছাই থেকে অকস্মাৎ
জেগে উঠে অবিনাশী কোন পাখি, যদি দেখা যায়
কারুর হাসির ছটা, উন্মিলিত স্নেহ, ভালোবাসা।

(বিজয় দিবসে সকল মু্ক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং অংশগ্রহনকারী সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা..........)
(পুরোটা পড়ুন...)

আমাকে পত্র লিখুন  

প্রকাশ করেছেন নকীব

আমাকে লিখার জন্য নিচের ফরমে লিখুন
(পুরোটা পড়ুন...)